Thursday, April 30, 2020

এক নতুন ভালোবাসার গল্পে আমার সাথে সোহিনী

                 এক নতুন ভালোবাসার গল্পে
                    আমার, সাথে সোহিনী
    






                               পাঠ-১

প্রথম দেখা হয় মুভির-লাভসিন এর মতোই , নদীর মাঝে । আমি একটা বোটে আর ও অন্য আরেকটি বোটে । আমি টিউশন থেকে বাড়ি ফিরছিলাম আর লাভলি স্কুল যাচ্ছিল । এই দেখাটা হয়েছিল ক্লাস 11 এর লাস্টে দিকে  । কিন্তু আমি ওর সমন্ধে অনেক আগে থেকেই অনেক কিছু শুনতাম আমার বন্ধু আয়ুশ এর কাছ থেকে । শুধু সোহিনী না পায়েল এর ব্যাপারেও । রাহুল এর মতে - সোহিনী পড়ালেখায় ভালো একটু বেশি মুখস্ত করে, বাংলা টা একটু বেশি পড়ে, সামান্য রাগি,আর সামান্য একটু ঘ্যাম দেখায় আরো কতকিছু । পায়েল লেখাপড়ায় ভালো, মেধাবী, খুব শান্ত আর খুব সুন্দরী । সবাই ওদের চেনে শুধু আমি বাদে । এভাবেই না চিনেই কেটে যায় কয়েক বছর । বন্ধুদের কাছে ওদের গল্প শুনি  তাই চেনার ইচ্ছেটা বাড়ে । আর একদিন দেখাও হল আমার এক বন্ধুর সহযোগিতায় আমার বন্ধু বলল ওই দেখ সোহিনী যাচ্ছে । আমি ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম ও হালকা ঘ্যাম এর সাথে বোটের  এক নজরে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে । ওদের স্কুলে ড্রেসটা ছিল খুব সুন্দর । আগমনীর সাজ ফুটে উঠেছিল । তখন এই সিনটা এতো রোমান্টিক লাগেনি । তারপর আবার কয়েক বছর পর । আমি পায়েল এর সাথে দেখা করতে অনেক বেশি ইচ্ছুক হয়েছিলাম । কারন আমি মনে মনে ওকে পছন্দ করতাম । পৃথা একদিন আমাকে ইনভাইট করে আমি আমার এক বন্ধুকে নিয়ে যাই সেখানে, পায়েলও আসবে জানতাম তাই বেশি আগ্রহের সাথে রেস্টুরেন্ট এ পৌঁছাই । সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল ওরা আমাকে পায়েল এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল পৃথা । সবাই একসাথে বিরিয়ানী খেলাম একটা ছবি তুললাম তারপর বাড়ি চলে আসি । পৃথা হোয়াটসঅ্যাপ এ একটা গ্রুপ বানাল শুধুই বন্ধু ওখানে সোহিনী , আমি আর পৃথা ছিলাম । পায়েল ফোন ব্যবহার করত না । গ্রুপে ম্যাসেজ করতে করতে সোহিনী ও ভালো বন্ধু হয়ে গেল ‌। দুজনকেই জানাই যে আমি পায়েল কে ভালবাসি । কিছুদিন পর মুম্বাই যাই পৃথার সাথে মাঝে মাঝে কথা হত আর সোহিনীর  সাথে একটু কম । পৃথাকে অনেক বছর আগে থেকেই জানতাম ওর বাবা আমদের স্যার, টিউশন পড়তে যেতাম । ও তখন কথা কম বলত ওর দিদি আমাদের সাথে বেশি ফ্রেন্ডলি ছিল । মাধ্যমিক এর পর থেকে একটুখানি কথাটা বাড়ে আর ফ্রেন্ডশিপ ও বড়ে । ওর সাহায্যেই মাঝে মাঝে পায়েল এর সাথে কথা বলতে পারতাম । আমি পায়েলকে  সিরিয়াসলী ভালোবাসি সেটা ওরা অনুভব করে আমায় জানায় ও আগে থেকেই অন্য কারো সঙ্গে প্রেম করে। মাধ্যমিক এর পর আন্নেসা পাইন (মাধ্যমিক স্টেট টপার) এর ছবি ওয়ালপেপার হিসেবে ব্যবহার করতাম তারপর পায়েল (উচ্চমাধ্যমিক এলাকার টপার ) এর ছবি  কিছুদিন রাখার পর বুঝলাম যে পায়েলও , অন্নেসার মতোই  আমার নয় অন্য কারো । মুম্বাই থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক দিন পর আমার এক বেস্ট ফ্রেন্ড এর দিদির বিয়েতে পায়েল , সোহিনী, পৃথা আরো কয়েকজন নাম না জানা ফ্রেন্ড আসে । আমার তো পায়েল এর দিকে তাকিয়ে থাকা উচিত ছিল ওর দিকে একবার তাকিয়ে  ছিলাম কিন্তু কিছু মনে হয়নি । কিন্তু সোহিনীর দিকে তাকিয়ে আমার হার্ট-বিট বেড়ে যায় যার জন্য ওর সাথে কথাও বলতে পারিনি ।পরে মাঝে মাঝে আমি সোহিনী কে দেখতাম দূর থেকে কিন্তু সামনাসামনি কথা বলতে ভয় পেতাম । পায়েল কে টপিক করে ম্যাসেজ এ ভালোই কথা বলতাম কিন্তু ও কাছে এলেই হার্টবিট বেড়ে যেত । তখন এই নতুন অনুভূতির কোনো নাম আমি খুঁজে পায়নি। পায়েল একটা ফোন ব্যবহার করা শুরু করে । মাঝে মাঝে আমিও ওকে ম্যাসেজ করতাম । আমি সকালে ম্যাসেজ করলে ওর রিপ্লাই আসতো রাতে।  তাই ওকে সেলিব্রেটি,ব্যাস্ত মানুষ বোঝাতে আমি ওকে বোলেছিলাম - তোর সাথে একটা ছবি তোলার ইচ্ছে হচ্ছে । কিছু রচনা দ্বারা আমায় অভদ্র করল । হয়তো  পৃথাও তাই আমার সাথে কথা বলে না । হয়তো আমার সবাইকে সত্যি কথা বলা উচিত ছিল যে - পায়েল এর প্রেম করার কথা জানার পর ওর প্রতি লাভ ফিলিং , ফ্রেন্ডশিপ এ পরিনত হয়েছিল । অন্য দিকে আমি সোহিনী কে অনেক কিছু বলার পরও ও আমাকে ভুল বোঝেনি ওর মধ্যের উদারতায় আমাকে ওর প্রতি ভাবতে বাধ্য করে । ধিরে ধিরে ওর সততা , উদাসিন মনোভাব, বিশ্বাস, উদারতা,ওর মনের পবিত্রতা দেখে আমি অন্য সব ভুলে ওকে ভালোবেসেফেলি । আগে সময় পেলেই মুভি দেখতাম কিন্তু এরপর থেকে ওর সমস্ত ছবিগুলো আমার হৃদয় এ সঞ্চয় করতে শুরু করলাম । ওর ছবি দেখে ওর উপস্থিতি অনুভব করতাম । আমার কাছে ভাবার মত কিছুই ছিল না আগে । ওকে ভালোবেসে আমি নিজেকে ওর সাথে স্বপ্নের জগতে খুঁজে পেতাম । আর দিন ভর তো ওকে নিয়ে ভাবার সময় এর অভাব ছিল না । মনের মধ্যে নতুন নতুন অনুভূতি অনুভব করতাম । ওকে দূর থেকে ভালোবাসেও আমি খুব আনন্দ পেতাম । আমি ভেবেছিলাম আমি ওকে কোনদিনও জানাবো না যে আমি ওকে ভালবাসি। তাই অনেকদিন ফ্রেন্ড হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ এ ছিলাম । তারপর একদিন আমি ওকে বোলেই ফেলি যে আমি ওকে ভালবাসি । তারপর কয়েকদিন আমি আমার ফোন সুইচ অফ করে রেখেছিলাম কারন ওকে যে খুব ভয় পেতাম ।
                 তারপর কয়েকদিন পর রিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে গিয়েছিলাম ভিশন মজা করেছিলাম । আসার সময় পার্ক এর পিছন দিয়ে আসছিলাম । জায়গাটা সোহিনীদের বাড়ির পাশেই । ঠিক পার্ক এর পাশে আসতেই আমি সোহিনী কে আর পৃথাকে দেখে 8টার সময় 12টা অনুভব করলাম । আমায় ভালো ভাবে দাঁড়াতে বললো । আমি ভাবলাম হয়তো ও আমাকে বোঝানোর জন্য দাঁড়াতে বলছে । আমি সাইকেল টা রেখে দাঁড়ালাম । সোহিনী আমার সার্ট এর কলার ধরে দুই চড় মারল ,আর রাস্তা থেকে একটু পাশে টেনে নিয়ে এল । আমি আমার ডান হাত দিয়ে ওর বাঁহাত টা ধরলাম যেটা দিয়ে আমর কলার ধরেছিল ।আর আমার বাঁহাত দিয়ে ওর ডান ধরলাম যাতে আর চড় না মারে । ও ভিষন রেগে ছিল তাই কান্না করতে করতে আমায় বলেই যাচ্ছে- ও আমার কাছে এটা এক্সপেক্ট করেনি, আমার সাহস কি করে হয় আরো কতকিছু। আমরা দুজনেই ঘামিয়ে গিয়েছিলাম  । আর ওর চোখের জলে আর ঘামে ভিজে গঙ্গা স্নান হয়েগিয়েছিল । আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না ।ভয়ে আমার হার্টবিট বেড়ে যায় দপদপ শব্দ হচ্ছিল । ও আমার কাছে এলেই হার্টবিট বেড়ে যায় । এখন নতুন অনুভূতির সাথেই, ও আমার কাছেই ছিলো , আরো কছে টেনে নিয়ে ছোট্ট কিস করে জড়িয়ে ধরে বললাম আমি তোকে ভিষন ভালবাসি । আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না । এতক্ষণ সোহিনী বলছিল কিন্তু এবার ও চুপচাপ । এবার পৃথা বলছে কিরে কেউ এসে যাবে ছাড় বাড়ি চল  ।ওদিন সোহিনী আর কিছু বলল না ।পৃথা বলল বাড়ি যা আমি সরি বলে সোহিনীর চোখে একবার চোখ রেখে চোলে আসি । আমি ওই রাতে ঘুমাতে পারিনি । আমি সারা রাত শুধু ওর কথাই ভাবলাম । যদিও এটা আগেও করতাম  কিন্তু এই রোমান্টিক ভয়ঙ্কর ঘটনাতো আগে ঘটেনি । অনেক রাততো হার্টবিট নরমাল করতেই চলে যায় । সকাল 9 টায় একটা ভুতের স্বপ্নের (একটা অদৃশ্য শক্তি আমাকে আকাশের দিকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ।) সাথে ঘুম ভাঙ্গে ।

                               পাঠ -২

আমি অনেকটা ভয় আর কৌতূহল নিয়ে সেই স্বপ্ন দেখে উঠি। মনের মধ্যে একটা জিনিস চলতে থাকে কী হবে এরপর সব ঠিক হবে তো নাকি ভুল করলাম একটা অনেক বড় ভুল ওকে এমনভাবে বলা তারপর কিস করা যাইহোক এই সবের মধ্যে আমার কাছে একটা এসএমএস আসে আমি অবাক এটা সোহিনীর এসএমএস "দেখে করা যায় কি " বিকেল ৫.৩০ একই যাইগা । প্রথমে খুব ভয় হলো সঙ্গে একটা চাপা উত্তেজনা কী বলবে যাবো যদি হিতে বিপরীত কিছু হয় । যাই হোক যা হবার হবে তাই অনেকটা সাহস নিয়ে গেলাম দেখলাম ও একটা বেঞ্চের উপর বসে আমি প্রস্তুত ছিলাম আমার আরেকটা গালে চর খাওয়ার জন্য কিন্তু সেটা ঘটল না সেদিনকে সোহিনী আজকের মধ্যে অনেকটা পার্থক্য শান্তশিষ্ট আমি পাশে গিয়ে বসলাম তখন আমায় জিজ্ঞাসা করল কালকে ওটা কি ছিল আমি ইতস্তত ভাবে কথা আটকে যাচ্ছে যেন আমার মনে হয় কিছুই বলতে পারছি না শুধু বললাম ক্ষমা করে দিস ওইভাবে কিছুই বলিনি আর জানি তোর আমায় না ভালো লাগতে পারে কিন্তু আমার যা মনে হয়েছে আমি তাই করেছি। এই শুনে সোহিনী হাসলো আর বলল দেখ একটা জিনিস বলে ব্যাগের ভেতর থেকে একটা খাম বের করল এটা ছিল কলকাতায় কলেজের এডমিশন এর একটা নোটিশ আমায় বলল দেখ কিছুদিনের মধ্যে আমি চলে যাচ্ছি আমার আকাশ সম্পূর্ণ আলাদা তোর আকাশ সম্পূর্ণ আলাদা আর সেখানে দুটো পাখি একে অপরের থেকে এতটা বিপরীত হয়ে কিভাবে থাকতে পারে একসাথে। আমি অবাক হব, কান্না করব ,উৎসাহিত হব, নাকি অন্য কিছু কিছুই বুঝতে পারছিনা। শুধু তোরে বললাম হুম। সোহিনী তারপর ওর স্বপ্নের কথা জীবনে কিছু করার কথা আমার সাথে শেয়ার করলো আমিও শুনলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না কি বলতে চাইল আস্তে আস্তে চারিদিকে অন্ধকার নেমে আসলো মনে হয় বৃষ্টি হবে সোহিনী থেকে বলল বাড়ি যাওয়ার সময় হয়ে গেছে আমি যাচ্ছি। আমি অবাক হয়ে কিছুই বুঝতে পারলাম না শুধু বললাম হুম। তারপরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হল সোহিনী চলতে শুরু করলো আমিও চলতে শুরু করলাম কিন্তু দুই জন দুই আলাদা রাস্তায় কিছুটা তো যাওয়ার পর আমি চিৎকার করে ডাকি সোহিনী সোন ও ফিরে তাকালো বৃষ্টি পাই জোরে জোরে পড়া শুরু করেছে আমি বললাম একটাই লাস্ট প্রশ্ন "তুই কি আমাকে ভালোবাসিস ?" তারপর জোরে বৃষ্টি শুরু সোহিনী দৌড়ে চলে যায় আর আমি সেই বৃষ্টির মধ্যে আমার হাজারো মনের প্রশ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। এত প্রশ্ন আমায় জ্বালাতন করছিল আমি বাড়ি চলে আসি সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বরও
                       
                            পাঠ -৩

                         Upcoming


7 comments:

Indrajit said...

Best story

Anonymous said...

Nice but work more on your character introduction

Maitra said...

Nice

Maitra said...

Noice

Maitra said...

Noice

Anonymous said...

Chalia ja vai,, aro lekha r opekha e thakbo😇

Anonymous said...

Noice

Welcome to my blog

Love story ❤️